জামালগঞ্জে গ্রাম আদালতের সফলতায় বিচারপ্রার্থীদের মুখে হাসি

 


সুনামগঞ্জ জেলার অবহেলিত জনপদ জামালগঞ্জ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় কাজ করছে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প এর কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গ্রাম আদালত। স্বল্প ব্যয়ে এবং অল্প সময়ে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করায় উপজেলার গ্রাম আদালত কার্যক্রম প্রশংসা কুড়িয়েছে সচেতন মহলের।

 জামালগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। উপজেলার গ্রাম আদালতের উপজেলা সমন্বয়কারী- হাফছা বেগম জানান, গ্রাম আদাল আইন-2006 অনুযায়ী অনধিক ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারী অভিযোগ সমাধান করতে পারে। আগের তুলনায় এখন সাধারণ মানুষ অনেক বেশি সচেতন। ছোটখাটো দ্বন্দ্ব, বিদ্বেষ, কোন্দল ও সংঘাত নিয়ে উচ্চ আদালতে না গিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করছেন। এতে স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত বিচার পাওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা ক্ষতিপূরণ ও পাচ্ছেন।

গ্রাম আদালতে দেওয়ানি মামলার জন্য ফি ২০ টাকা আর ফৌজদারি মামলার জন্য ফি ১০ টাকা। এখতিয়ারভুক্ত ফৌজদারি  ও দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে অনধিক তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারেন গ্রাম আদালত। তিনি মফস্বলের বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক জামালগঞ্জ সংবাদ কে দেয়া এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন ,  ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ মাসে  ৬ টি ইউনিয়নে মোট  মামলা হয়েছে ৩৮৮ টি । এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৬১ টি। নিষ্পত্তি কৃত মামলার অভিযোগ কারী বা অভিযুক্ত কারী যাদের পক্ষে ন্যায় বিচার রায় হয়েছে তার ক্ষতিপুরন হিসাবে প্রাপ্ত হয়েছে ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৬০ টাকা।

ইউনিয়ন ওয়ারী  প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সবচেয়ে বেশী মামলা হয়েছে ভীমখালী ইউনিয়নে , যার মামলার সংখ্যা ১৫০ টি , নিষ্পত্তি হয়েছে ১৪০ টি , ক্ষতি পুরন প্রাপ্ত অর্থ ৬ লাখ ৪১ হাজার ২৬০ টাকা । সাচনা বাজার ইউনিয়নে মোট মামলা হয়েছে ৬৫ টি , নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৪ টি , ক্ষতি পুরণ পেয়েছে ৫ লাখ ৫৯ হাজার । জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে মোট মামলা হয়েছে ৫৭ টি , নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৪ টি , ক্ষতি পুরণ পেয়েছে ২৫ হাজার ৬০০ টাকা। জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নে মোট মামলা হয়েছে ৫২ টি , নিষ্পত্তি হয়েছে ৫২ টি । বেহেলী ইউনিয়নে মোট মামলা হয়েছে ৪২ টি , নিষ্পত্তি হয়েছে ৪১ টি, ক্ষতি পুরণ পেয়েছে ৩৫ হাজার। ফেনার বাঁক ইউনিয়নে মোট মামলা হয়েছে ২২ টি , নিষ্পত্তি হয়েছে ২২ টি , ক্ষতি পুরণ পেয়েছে ৭০ হাজার টাকা।

সচেতন মহল মনে করছেন, ছোটখাটো বিরোধ ও অভিযোগ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হওয়ায় স্থায়ীভাবে দ্বন্দ্ব নিরসন সম্ভব হচ্ছে। এতে আদালতমুখী ঝামেলা ও ব্যয় কমার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিও বজায় থাকছে। তারা গ্রাম আদালতকে ন্যায়বিচারের অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সবাই চায় গ্রাম আদালত হোক ন্যায় বিচারের ভরসার স্থল।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Search This Blog