| সুনামগঞ্জ |
সুনামগঞ্জে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সাথে এক মতবিনিময় ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের
সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার
বিভাগের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত
হয়। ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ
(৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ও ইউএনডিপি-এর সহযোগিতায় এই
সভার আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়
সরকার বিভাগ, সুনামগঞ্জের উপপরিচালক
অসীম চন্দ্র বনিকের সভাপতিত্বে
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা
প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
বক্তব্য
প্রদান করেন সুনামগঞ্জের পুলিশ
সুপার এ বি এম
জাকির হোসেন, পিপিএম, দিরাই
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার, শাল্লা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস,
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
শিল্পী রাণী মোদক, সুনামগঞ্জ
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মো. রুহুল আমিন এবং
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সভায়
উপস্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত
জুন ২০২৬ থেকে আগস্ট
২০২৬ পর্যন্ত বিগত ৩ মাসে
জেলার ৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদের
গ্রাম আদালতে মোট ৬৮৪টি
মামলা গৃহীত হয়েছে এবং
পূর্বের বকেয়াসহ মোট ৬৬৫টি মামলা
সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত
মামলার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে মোট ৫৮,৮৪,৪২৫ (আটান্ন
লাখ চৌরাশি হাজার চারশত
পঁচিশ) টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়
করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছাতক উপজেলায় সর্বোচ্চ
৮৮টি এবং সুনামগঞ্জ সদর
উপজেলায় ৮৭টি মামলা নিষ্পত্তি
হয়েছে। তবে প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা
অনুযায়ী প্রতিটি ইউপি-তে প্রতি
মাসে গড়ে ৫টি মামলা
গ্রহণের কথা থাকলেও বর্তমানে
তিন মাসের গড় মামলা
গ্রহণের হার ২.৫৯
, লক্ষ্যমাত্রা ১৩২০টি মামলার বিপরীতে
৬৮৪টি গৃহীত।
গ্রাম
আদালতের বার্তা প্রান্তিক জনগণের
কাছে পৌঁছে দিতে এবং
প্রচার-প্রচারণা জোরদারে বেশ কিছু পদক্ষেপ
তুলে ধরা হয়:
আগামী
২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে
জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের
প্রচার ও আনুষঙ্গিক কাজের
জন্য মোট ৩৪,৩৬,৬৫০ টাকা বরাদ্দ
রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন
পর্যায়ে ভিডিও প্রদর্শন, হিসাব
সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের
প্রশিক্ষণ, লিফলেট বিতরণ এবং
উপজেলাভিত্তিক জিও-এনজিও কর্মশালার
আয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে
বেআইনি সালিশ বন্ধ করে
গ্রাম আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় বিরোধ
নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা
হয়।
উচ্চ
আদালতে মামলার চাপ কমাতে
গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় করার
লক্ষ্যে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেশ
কিছু সুপারিশ গৃহীত হয়: জুম্মার
খুতবায় ইমামদের মাধ্যমে আলোচনা এবং স্থানীয়
ক্যাবল টিভিতে স্ক্রলিং-এর
মাধ্যমে বার্তা প্রচার।
গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলাসমূহ থানা থেকে সরাসরি
ইউনিয়ন পরিষদে প্রেরণে উদ্বুদ্ধকরণ। বিভিন্ন দপ্তরের
দাপ্তরিক চিঠিপত্র, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল
লিফলেট প্রকাশ এবং ইউএনও
-দের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত
করা।
প্রধান
অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ
মিনহাজুর রহমান বলেন, "প্রান্তিক
জনগণের দোড়গোড়ায় স্বল্প খরচে ও
দ্রুত বিচার পৌঁছাতে গ্রাম
আদালতের বিকল্প নেই। সরকারি-বেসরকারি সকল দপ্তরের সমন্বিত
প্রচারের মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে আরও
গতিশীল করতে হবে।"
Post a Comment