আল আমিন ইসলামী মডেল মাদ্রাসায় ফুটবল খেলা লড়াইয়ে 'রাজহাঁস' জিতল স্পেন দল

 



অনলাইন ডেক্স: শিক্ষার্থীদের কেবল গ্রন্থগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক ফ্রেশমেন্ট এবং সুস্থ বিনোদনের খোরাক জোগাতে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরে অবস্থিত আল আমিন ইসলামী মডেল মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক ব্যতিক্রমী ও রোমাঞ্চকর প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা। বিশিষ্ট সমাজসেবক ইলিয়াস জাবেদ রাজ সাহেবের প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো মাঠজুড়ে দিনভর বিরাজ করছিল এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।                                                                                                                                                            
ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুই পরাশক্তি ‘আর্জেন্টিনা’‘স্পেন’—এই দুই দলের ব্যানার ও জার্সি ধারণ করে মাঠে নামে। খেলা শুরুর বাঁশি বাজার সাথে সাথেই দু'দলের মধ্যে শুরু হয় তীব্র আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ। খুদে ফুটবলারদের দুর্দান্ত ড্রিবলিং, পাসিং এবং কৌশলগত ক্রীড়াশৈলী উপস্থিত দর্শকদের পুরোপুরি বিমোহিত করে। গোল ও পাল্টা গোলের শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার পর অবশেষে ‘আর্জেন্টিনা’ দলকে ৭-৬ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে কাঙ্ক্ষিত জয়ের মুকুট ছিনিয়ে নেয় ‘স্পেন’।                                                                                                        
উক্ত প্রীতি ম্যাচটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন শাল্লা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাও. মোঃ মোয়াজ্জম আল হোসাইন। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সফল ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শাল্লা উপজেলার গ্রাম আদালতের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মোঃ শফিকুল ইসলাম। পুরো ম্যাচজুড়ে অত্যন্ত পেশাদারিত্ব, কঠোর নিয়ম-নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সাথে প্রধান বিচারক (রেফারি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোঃ জিনাস আহমেদ
মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও নৈতিক চরিত্র গঠনে খেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বেশ কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মাবলী:
শারীরিক সুরক্ষা: খেলার সময় কোনো খেলোয়াড়ের মাথায় বা বুকে বল লাগলে তা সরাসরি ‘ফাউল’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যাতে খুদে শিক্ষার্থীরা আঘাতপ্রাপ্ত না হয়।                                                                    
খেলার মাঠে যেকোনো ধরনের অশালীন ভাষা বা অনুচিত শব্দ চয়ন রোধে সরাসরি ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শনের কঠোর নিয়ম কার্যকর ছিল।
ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত হয় এক চমৎকার ও আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সেখানে বিজয়ী 'স্পেন' দলের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের হাতে প্রতিযোগিতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমী উপহার—একটি ‘রাজহাঁস’ তুলে দেন প্রধান অতিথি, মাদ্রাসার সম্মানিত পরিচালক, স্থানীয় গুণীজন ও শিক্ষকমণ্ডলী।                                                                                                                                                
খেলার মূল ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে আল আমিন ইসলামী মডেল মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মোঃ আল আমিন মাহমুদ বলেন:
"পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই এই শরীরচর্চামূলক খেলার আয়োজন। পুরষ্কার হিসেবে পাওয়া এই বিজয়ী হাঁসটি কেবল বিজয়ী দলের একক সম্পত্তি নয়, বরং এটি পুরো মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থীর যৌথ আনন্দ ও ভালোবাসার অংশীদারত্ব প্রকাশ করে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের কথা মাথায় রেখে ইনশাআল্লাহ্ প্রতি মাসেই আমরা এমন ভিন্নধর্মী, সচেতনতামূলক ও আনন্দদায়ক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত রাখব।"                                                                                                                                                                    
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক, কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং এলাকার ক্রীড়ামোদী সর্বস্তরের সাধারণ জনতা উপস্থিত ছিলেন। ব্যতিক্রমী এই খেলা উপভোগ করার পাশাপাশি সবাই আয়োজকদের এমন মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং করতালি দিয়ে বিজয়ী ও বিজিত উভয় দলকে উৎসাহিত করেন। 

Post a Comment

Previous Post Next Post

Search This Blog